স্মার্ট টেকের কর্ণধার জহিরুল-মাজহারুলের বিদেশি ব্যবসা নিয়ে দুদকের তদন্ত
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
দেশের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিসের কর্ণধার দুই সহোদর জহিরুল ইসলাম ও মাজহারুল ইসলামের বিদেশে গড়ে তোলা ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুই ভাই বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে করা বিনিয়োগ, ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন এবং বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসার মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করে স্মার্ট টেকনোলজিস। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রয়েছে।
তথ্য অনুসারে, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন জহিরুল ইসলাম ও মাজহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। এতে দুই ভাই সমান অংশীদার এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দুবাইয়ে ‘সিমাল টেকনোলজিস মিডল ইস্ট’ এবং ‘টুইনমস টেকনোলজিস মিডল ইস্ট’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আফ্রিকাসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্তৃত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদেশে এসব ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও বিদেশি এসব প্রতিষ্ঠানের আয়-সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়টি সত্য। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী বলা যায় না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। এ-সংক্রান্ত কিছু নথি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ, মালিকানা কাঠামো, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট আইনি অনুমোদনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



