আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত, বিচার ও প্রতি শিশুর অভিভাবককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আজীবন থাকার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের আইনজীবী শিশির মনির জানান, নিহত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা আজীবন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি তাদের সন্তানেরা হাসপাতালের মেডিকেল কলেজে বিশেষ বৃত্তিতে পড়াশোনার সুযোগ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত অবহেলার ফল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি নিছক অবহেলা নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর এই ঘটনায় একদিকে যেমন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, তেমনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ও সংশ্লিষ্টরা।



