চানখারপুলে ছয় হত্যাকাণ্ড
সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ আট পুলিশের রায় আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে ২০ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নির্ধারণ করে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়।
মামলার ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের। ওই ঘটনায় শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে ৯০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল-১ এ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয় এবং একই দিন আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
এর ধারাবাহিকতায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১১ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ। তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৩ কার্যদিবসে মোট ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ১০ ডিসেম্বর। ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক এবং ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় জব্দ তালিকা হিসেবে ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বই ও ১১টি প্রতিবেদন এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ জমা দিয়েছে। যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষ বেকসুর খালাস চেয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবার দৃষ্টি।



