তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি চলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৮ এএম
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা মামলার আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।
আদালতে ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়। সে দিন রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।
গত ২১ অক্টোবর থেকে এই মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেন আদালত।
পরবর্তীতে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করেন।
পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এর পরপরই একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
২০১১ সালের জুলাইয়ে ওই সংশোধনীর গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। পরে ২০২4 সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর পৃথকভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। একই দাবিতে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর আপিল বিভাগের কাছে আবেদন জানান।



