শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৬ এএম
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই ও জেআইসি সেলে গুম-খুন এবং জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে গুমের দুই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন সকাল ৮টার পর তিনটি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
শুনানি শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, তিন মামলার মোট ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জনকে হাজির করা হয়। আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পলাতক আসামি শেখ হাসিনাসহ অন্যদের হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। একই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) এ গুমের অভিযোগে দায়ের করা আরেক মামলায় ১৩ আসামির তিনজনকে হাজির করা হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধেও একই আদেশ দেন এবং পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এ মামলার শুনানিও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া, গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির হওয়া দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক দুই আসামির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৫ নভেম্বর।
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর পৃথক তিন মামলায় মোট ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করে। তিন মামলার মধ্যে দুটি মামলায় শেখ হাসিনার নাম রয়েছে।
৩৪ আসামির মধ্যে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাই রয়েছেন ২৫ জন। সেনা সদর দপ্তর জানায়, ১১ অক্টোবর তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সেনা কর্মকর্তারা হলেন— র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন ও পল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট এলাকার প্রবেশপথে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।



