শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের ২০তম দিন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৪ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আরও এক আসামির বিরুদ্ধে আজ (সোমবার) সাক্ষ্যগ্রহণের ২০তম দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সকাল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিন প্রথমেই ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এরপর নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। প্রসিকিউশন আরও তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেছে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জুনায়েদের জবানবন্দি শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হয়। তবে জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছিল। তিনি এই মামলার ৪৮তম সাক্ষী হিসেবে ২০১৩ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
একই দিন সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করা হয়। দুপুরে তার জেরা শেষ হয়। এছাড়া দৈনিক *আমার দেশ* সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী।
এই মামলার অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সাক্ষ্য। তিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন এবং শেখ হাসিনা ও কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে জানান। ক্ষমাও চান তিনি।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও তারেক আবদুল্লাহ।
গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে ৮১ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা এর জন্য শেখ হাসিনা, কামালসহ অভিযুক্তদের দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।



