সেই বিচারপতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই
স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
সেই আলোচিত সমালোচিত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বিষয়টা চূড়ান্ত করতে আগামী ২ সেপ্টেম্ব তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।
কাউন্সিলের অপর দুই সদস্য হলেন-আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকার পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুবই দাপটের সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার কোম্পানি কোর্টে দপ্তরীয় পক্ষের বাবার ট্রাস্টকে অনায়াসে উপকৃত করেছেন, যা বিচারপতির আচরণ বিধির লঙ্ঘন এবং বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এ ধরণের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জে.এস.সি-র তদন্তে তলব করা হয়েছে এবং বিচারকাজ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি, অনিয়ম ও “সরকার পক্ষের সহযোগিতা” সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারসহ ১২ হাইকোর্ট বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে ছুটি দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এরপর এসজেসসি (Supreme Judicial Council) তাকে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে তলব করে প্রক্রিয়া শুরু করে।
বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার কোম্পানি বেঞ্চ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট - যেটি তার নিজের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত - সেটিতে টাকা (ডোনেশন) পাঠানোর নির্দেশ দিতেন।
কোম্পানি কোর্টের রায়ে বলা হয় যে, মামলা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর হস্তান্তরকারী প্রতিষ্ঠানকে পূর্বশর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ পে-অর্ডার/ডোনেশন দিতে হবে ওই ট্রাস্টে। এ ধরণের কমপক্ষে ৬৫টি মামলা থেকে উল্লেখযোগ্য অনুদান আদেশ দেওয়া হয়, যা বিচারপতির প্রভাব ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রমাণ হিসেবে রেজিস্টার খাতায় এ ধরণের আদেশ ও অর্থপ্রদানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির (বিএনপি-পন্থি) ৬ আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন, যেখানে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠে।
অভিযোগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন, সিনিয়র সহ-সম্পাদক মাহফুজ বিন ইউসুফ, সহ-সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান খান, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম আকতার জাকির, মনজুরুল আলম সুজন এবং কামরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য, ওই বিচারপতি প্রয়াত সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার জামাতা, এবং অভিযোগটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পটভূমি নিয়েও বিতর্ক তৈরি করে।
ওই পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টটি “অভিযোগপত্র ভিত্তিক”, যেখানে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ফজলে রাব্বীর আত্মীয় হওয়ার প্রেক্ষাপটেও আলোচনাসূচক। যদিও এই অভিযোগের ফলস্বরূপ কোনও সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা সেই সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য নেই।



