সকালে ঘুম থেকে উঠেই পিঠে ব্যথা, যে ৭ কারণ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসক
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ এএম
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমাতে যান। কিন্তু সকালে ঘুম ভাঙতেই যদি পিঠের নিচের দিকে ব্যথা বা শক্ত হয়ে থাকার অনুভূতি হয়, তাহলে দিনের শুরুটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই একে ঘুমের ভুল ভঙ্গি ভেবে এড়িয়ে যান। তবে বারবার এমন হলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে-এর এক প্রতিবেদনে সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ, উপশমের উপায় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
সকালে পিঠে ব্যথার ৭টি সম্ভাব্য কারণ
১. মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষয়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষয় দেখা দিতে পারে। এতে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে কোমর বা পিঠে ব্যথা, শক্তভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা হতে পারে। সকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা বা ভার তোলার সময়ও সমস্যা বাড়তে পারে।
২. ফাইব্রোমায়ালজিয়া
এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি সমস্যা, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা দেখা দিতে পারে। সকালে পিঠে ব্যথা ও শক্তভাবের পাশাপাশি ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধাও হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম
দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা খেলাধুলার সময় পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে পরদিন সকালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। ব্যায়ামের আগে ওয়ার্মআপ এবং পরে কুলডাউন করলে এ ধরনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. ভুলভাবে বিছানা থেকে ওঠা
ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত উঠে বসা বা কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে ওঠার কারণে পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। তাই প্রথমে ধীরে বিছানার কিনারায় বসুন, কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, তারপর পা মেঝেতে রেখে ধীরে দাঁড়ান।
৫. ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি
ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিক না থাকলে পিঠ, কোমর ও ঘাড়ে চাপ পড়তে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে, কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখতে পারেন। এতে শরীরের অবস্থান ঠিক রাখতে সুবিধা হতে পারে।
৬. বেমানান তোশক
অতিরিক্ত নরম, দেবে যাওয়া বা শরীরকে যথেষ্ট সমর্থন দেয় না এমন তোশকে ঘুমালে সকালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই আরামের পাশাপাশি মেরুদণ্ডকে যথাযথ সমর্থন দেয়, এমন তোশক বেছে নেওয়া জরুরি।
৭. গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া বেশ সাধারণ। এ সময়ে হরমোনের পরিবর্তনে পেলভিসের লিগামেন্ট ও জয়েন্ট শিথিল হয়। পাশাপাশি শিশুর বাড়তি ওজন এবং শরীরের ভারসাম্য বদলে যাওয়ায় পিঠে চাপ বাড়ে।
হালকা ব্যথায় আরামদায়ক ভঙ্গিতে বিশ্রাম, হালকা নড়াচড়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা সেঁক উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, হাত-পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।



