প্রস্রাব চেপে রাখেন? জানুন এই অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
জরুরি মিটিং, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা আশপাশে শৌচাগার না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়েই প্রস্রাব চেপে রাখতে হয়। আবার কেউ কেউ অলসতা বা অসচেতনতার কারণেও সময়মতো বাথরুমে যান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে এমনটা হলে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখা কিংবা দীর্ঘ সময় মূত্রথলিকে অতিরিক্ত পূর্ণ রাখার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কী ধরনের ঝুঁকি হতে পারে-
১. মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই)
মূত্রথলিতে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. মূত্রাশয়ের পেশিতে সমস্যা
দীর্ঘ সময় ধরে মূত্রাশয় অতিরিক্ত প্রসারিত অবস্থায় থাকলে এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। নিয়মিত এমন হলে মূত্রাশয়ের পক্ষে প্রয়োজনমতো সংকুচিত হয়ে প্রস্রাব বের করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
৩. মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়া
প্রস্রাব করার পরও আবার প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি অল্প সময় পরপর বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে কিংবা প্রস্রাবের ধারা শুরু করতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. প্রস্রাব আটকে যাওয়া
কিছু ক্ষেত্রে মূত্রাশয় থেকে প্রস্রাব বের হওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তীব্র প্রস্রাব আটকে যাওয়ার সঙ্গে তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৫. কিডনিতে জটিলতা
দীর্ঘদিন গুরুতর প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যা চিকিৎসা ছাড়া থাকলে মূত্র কিডনির দিকে ফিরে যেতে পারে। এতে কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এই ঝুঁকি মূলত দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ইউরিনারি রিটেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অর্থাৎ, দীর্ঘ কোনো মিটিং বা কয়েক ঘণ্টার সড়কযাত্রায় একবার-দুবার প্রস্রাব চেপে রাখলেই বড় ধরনের ক্ষতি হবে—এমন নয়। তবে নিয়মিতভাবে প্রস্রাবের বেগ উপেক্ষা করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ করে প্রস্রাব আটকে যাওয়া, তীব্র ব্যথা বা প্রস্রাব করতে ক্রমাগত সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।



