Logo
Logo
×

ফিচার

লিভার ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো বন্ধ করা জরুরি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ এএম

লিভার ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো বন্ধ করা জরুরি

অনেক সময় প্রথম দিকে লিভারের রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আর কয়েকটি ভালো অভ্যাসই ভবিষ্যতে লিভারকে গুরুতর রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

কারণ লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমরা যা খাই, তা হজমে সাহায্য করা থেকে শুরু করে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, ভিটামিন ও শক্তি সঞ্চয়— সব কাজেই লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো— লিভার নিজের ক্ষতি অনেকটাই নিজে সারিয়ে তুলতে পারে। 

দীর্ঘদিন কিছু খারাপ অভ্যাস চালিয়ে গেলে এ অঙ্গটিও একসময় আর কাজ করতে পারে না। তখন ফ্যাটি লিভার, লিভারে প্রদাহ— এমনকি সিরোসিসের মতো গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে। আমাদের রোজকার এমন তিনটি অভ্যাস রয়েছে, যা ৪০ বছর বয়সের আগেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

নিয়মিত মদপান

অনেকেই মনে করেন, অল্প পরিমাণে মদ খেলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, লিভারের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। প্রতিবার মদপানের পর লিভারকে সেই অ্যালকোহল ভেঙে শরীর থেকে বের করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে প্রথমে লিভারে চর্বি জমে। এরপর প্রদাহ শুরু হয়। চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওরের মতো ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যত কম অ্যালকোহল পান করা যায়, ততই লিভারের জন্য ভালো।

অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া

বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নিয়মিত চিপস, বার্গার, পিৎজা, কোল্ড ড্রিংকস, কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন। এগুলোকে বলা হয় আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড। এ ধরনের খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, অস্বাস্থ্যকর তেলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এখন কম বয়সিদের মধ্যেও এ রোগ দ্রুত বাড়ছে। তাই যতটা সম্ভব বাড়ির রান্না, শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও দীর্ঘদিন মানসিক চাপ

সারাক্ষণ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা রাতে কম ঘুমও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীরে বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে শুধু মনই ভালো থাকে না, লিভারও সুস্থ থাকে।

কী করলে লিভার ভালো থাকবে? সে বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, লিভার সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন