বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। ছবি: সংগৃহীত
১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপিরও বেশি খেলাপি ঋণের দায় শোধ করতে না পারায় আইনি ও আর্থিক বিপাকে পড়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব। পাওনা টাকা আদায়ের অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তার একাধিক সম্পত্তি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মুম্বাই শাখা অভিনেতার জন্মস্থান উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার দুটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর মধ্যে শাহজাহানপুর শহরের একটি বাড়ি এবং কুন্দ্রা গ্রামের পৈতৃক বসতভিটাসহ কৃষিজমি রয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.১৯ কোটি রুপি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন ই-নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তিগুলো বিক্রি করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিশাল অংকের ঋণের সূত্রপাত ঘটে ২০১২ সালে, যখন রাজপাল যাদব তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আতা পাতা লাপাতা’ প্রযোজনা করেন। ছবির অর্থসংস্থানের জন্য তিনি সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। ফলশ্রুতিতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মর্টগেজ করা সম্পত্তিগুলোর দখল নেয় এবং অর্থ উদ্ধারে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে।
ঋণ নেওয়ার সময় গ্যারান্টার হিসেবে রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা যাদব এবং মা গোদাবরী যাদবের নামে থাকা সম্পত্তিও জামানত বা মর্টগেজ রাখা হয়েছিল। ফলে ব্যাংকের এই বাজেয়াপ্তকরণের প্রভাব পড়েছে পুরো পরিবারের ওপর।
কেবল শাহজাহানপুরেই নয়, মুম্বাইতে থাকা অভিনেতার অন্যান্য বেশ কয়েকটি সম্পত্তির বিরুদ্ধেও অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
আর রাজপাল যাদবের এই আর্থিক সমস্যা শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন তিনি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লির ‘মুরলি প্রজেক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। টাকা ফেরত দিতে না পারায় জমে থাকা সুদের সঙ্গে একাধিক চেক বাউন্সের মামলা ঠুকে দেয় প্রতিষ্ঠানটি, যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট’-এর অধীনে আইনি লড়াই চলছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাইয়ে দিল্লি হাইকোর্ট সাতটি চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবের সাজা বহাল রাখেন। তবে পূর্বে জমা দেওয়া অর্থ সমন্বয় করে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে তিন মাস করেন এবং বাকি ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত।
সূত্র: সামা টিভি



