ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে গোল করার দৃশ্য নতুন কিছু নয়। তবে এবার ভিন্ন এক মিশনে দেখা গেল ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে। মাঠ নয়, নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত রাস্তায় স্পাইডারম্যানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। এমনই চমক নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে সনি পিকচার এন্টারটেইনমেন্টের নতুন একটি প্রোমোশনাল ভিডিও, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটির শুরুতে দেখা যায়, টম হল্যান্ড অভিনীত পিটার পার্কার একটি কফি শপে বসে ফোনে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলছেন। ঠিক তখনই হাতে একটি বিশেষ জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে সেখানে হাজির হন মেসি। তার লক্ষ্য—স্পাইডারম্যানকে খুঁজে বের করা। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিটার পার্কার স্পাইডারম্যানের পোশাকে সামনে আসেন। ভিডিওর শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, নিউইয়র্কের আকাশে স্পাইডারম্যানের জালে ভর করে দুলছেন স্বয়ং মেসি।
আগামী ৩০ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে মার্ভেলের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা স্পাইডারম্যান: ব্রান্ড নিউ ডে। ছবিটির প্রচারণার অংশ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ ভিডিও। মার্ভেলের প্রচারণায় নানা গোপন ইঙ্গিত বা ‘ইস্টার এগ’ রাখার ঐতিহ্য থাকায় ভিডিওটিও ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রোমোতে মেসির হাতে থাকা ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ কমিকসপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত একটি প্রযুক্তি। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত দ্য আমেজিং স্পাইডারম্যান কমিকসে পিটার পার্কার নিজেই এটি তৈরি করেছিলেন। তার ওয়েব-শুটারের সঙ্গে সংযুক্ত এই ডিভাইসটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ভিলেন ডক্টর অক্টোপাসের অবস্থান শনাক্ত করতে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ভক্তদের নজর কাড়ে ট্র্যাকারের স্ক্রিনে থাকা একাধিক লাল বিন্দু। অনেকের ধারণা, এটি মার্ভেলের মাল্টিভার্স থেকে আরও কয়েকজন স্পাইডারম্যানের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোমে টবে টোবি ম্যাগুইয়ার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং টম হল্যান্ডকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যা মার্ভেল ভক্তদের জন্য ছিল স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
নতুন সিনেমার গল্প শুরু হবে ‘নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার পর থেকে। পুরো পৃথিবী ভুলে গেছে যে পিটার পার্কারই স্পাইডারম্যান। এমন বাস্তবতায় একাই নতুন লড়াই শুরু করবেন তিনি। নিউইয়র্ককে রহস্যময় এক অদৃশ্য হুমকি থেকে রক্ষা করতে এবার তার সঙ্গে দেখা যাবে দ্য পানিসার এবং হাল্ককে।
মেসির এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি শুধু ফুটবল ভক্তদেরই নয়, মার্ভেল অনুরাগীদের মধ্যেও বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন সিনেমা ঘিরে উন্মাদনা। ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা এবং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিরো—এই দুই আইকনের এক ফ্রেমে উপস্থিতি যে প্রচারণাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা বলাই যায়।



