Logo
Logo
×

বিনোদন

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার আদেশ বাতিল

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার আদেশ বাতিল

চিত্রনায়ক সালমান শাহ

‘হত্যার প্রকৃত কারণ’উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতির আদেশ বাতিল করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার বাদী সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ ২০ মে সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। ‘মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহের লাশ পূনরায় কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পর্যালোচন করা একান্ত প্রয়োজন।’ এর প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ২৪ মে এ আদেশ দেন। বিষয়টি জানাজানি হয় ১০ জুন।

আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত হতে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাদীর বোন জামাতা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্ সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ’র সাথে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহ’র বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে মরার মতো পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অতঃপর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সংক্রান্তে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখম-ল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন