অভিনয়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। এই রাষ্ট্রীয় সম্মান তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত নির্মাতা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানকে। গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন ববিতা।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। এবার ৯ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এই সম্মান পাচ্ছে। তালিকায় নিজের নাম দেখে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ববিতা বলেছিলেন, ‘দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়েছি, তাতেই আমি খুব খুশি।’ ঘোষণার পর থেকেই তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দন ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন।
একুশে পদক প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো—আমি জীবদ্দশায় একুশে পদক পেতে যাচ্ছি। এমন রাষ্ট্রীয় সম্মান জীবদ্দশায় পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের। রাষ্ট্রের প্রতি এবং যাঁরা আমাকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভক্ত-দর্শকের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ। তাঁরা সব সময় আমার কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, ভালো-মন্দে পাশে থেকেছেন। তাঁদের ভালোবাসা ও উৎসাহেই আমি আজকের ববিতা। কৃতজ্ঞতা জানাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিও—আমার অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তাঁরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।’
অভিনয়ে ববিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল জহির রায়হানের হাত ধরে। সেই কারণেই একুশে পদকটি তাঁকে উৎসর্গ করেছেন এই অভিনেত্রী। ববিতার ভাষায়, ‘শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয় ও চলচ্চিত্রে আসা। তাই এই একুশে পদকটি আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ববিতার অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হন তিনি। পরের দুই বছর টানা ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য একই সম্মাননা লাভ করেন। এরপর ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘কে আপন কে পর’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পাশাপাশি ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবেও পুরস্কৃত হন।
চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ও গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে ববিতাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া অস্কারজয়ী বিশ্ববরেণ্য নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনিসংকেত’ চলচ্চিত্রে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
একুশে পদকের মাধ্যমে ববিতার সেই দীর্ঘ অভিনয়জীবনেরই আরেকটি গৌরবময় স্বীকৃতি যুক্ত হলো।



