Logo
Logo
×

শিক্ষা

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পাচ্ছে ল্যাপটপ

Icon

যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পাচ্ছে ল্যাপটপ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। একই বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার সংস্কারসহ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে জানানো হয়। এ পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান কমিটির সদস্যরা।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ প্রদানের উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সুপারিশ

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের জন্য বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, তিন বা ছয় মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর জোর

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মনে করেন, শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত মান নির্ধারণ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম ও বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শিক্ষা মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে ঘনঘন পরিবর্তন না আসে।

সাত দফা সুপারিশ

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সংসদীয় কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি, শিক্ষা বাজেটের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ব্যবস্থা জোরদার করা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিখনফলভিত্তিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন