Logo
Logo
×

শিক্ষা

সাপের দংশনে রাবি শিক্ষার্থী আইসিইউতে, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

Icon

‎রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

সাপের দংশনে রাবি শিক্ষার্থী আইসিইউতে, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে হলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে করেছেন, একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেন।

‎রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টা দিকে শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ও হল কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।এ সময় তাঁরা হল প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানান। এরপর হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রশাসন ভবন প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

‎বিক্ষোভের সময় হলের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত লিফলেট ও পোস্টার দেখা যায়। এতে ‘সিট বাণিজ্য আর কত’, ‘প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই’, ‘জঙ্গলমুক্ত হল চাই’, ‘সিট নিয়ে প্রহসন বন্ধ কর’, ‘খাবারের মান বৃদ্ধি কর’, ‘ওয়াশরুম পরিষ্কার কর’ এবং ‘কতজন মরলে হল প্রশাসনের টনক নড়বে’—এসব লেখা ছিল।

‎বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‎হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেন দিয়ে সাপ হলে প্রবেশ করে। এ ছাড়া হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানানো হলেও নিম্নমানের নেট দেওয়ায় তা বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না করায় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘেরাও করার কথাও জানান তিনি।

‎হল সংসদের জিএস সোয়াইব হোসেন বলেন, হলে এর আগেও সাপের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হলের চারপাশের জঙ্গল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে। তিনি জানান, সর্বশেষ ভোরে আবাসিক শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামকে সাপে কামড় দেওয়ার পর প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের গাফিলতির সুষ্ঠু বিহিত দাবি করেন তিনি।

‎আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান আশিক বলেন, আমাদের হলের চারপাশে এমন অবস্থা, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বসবাস করা অনুপযোগী। আমরা হল প্রশাসন, প্রভোস্টদের সবাইকে জানানোর পরেও তারা আমাদের এ বিষয়ে তারা কোন যৌক্তিক কাজ করেননি। এমনকি তারা এতই গরিমসি করেছে যে এক মাস পর এসে পুনরায় আমাদের বন্ধুকে সাপে দংশন করেছে। আমরা এখানে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

‎উল্লেখ্য, এর আগে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নুরনবী ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কামড় দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

‎সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর নুরনবীকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন