Logo
Logo
×

শিক্ষা

খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। 

পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়। 

এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।  

হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন