লাইব্রেরিতে হামলার উদ্দেশ্যই ছিল ৭১ এ জামায়াত শিবিরের সংরক্ষিত অপকর্ম মুছে ফেলা: রাবি ছাত্রদল সভাপতি
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম সম্পর্কিত সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলা।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের সড়কে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাহী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা ধর্মের বিভাজন সৃষ্টি করে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টানদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকার ও আলবদরের দোসররাই গতকাল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। লাইব্রেরির মতো নিরাপদ স্থানে শিবিরের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেছে। লাইব্রেরিতে হামলার উদ্দেশ্যই ছিল ৭১-এর জামায়াত-শিবিরের অপকর্মের সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলা।
ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্রশিবির একটি অনৈতিক সংগঠন। তারা ইসলামকে ব্যবহার করে অপরাজনীতি করছে। গতকালও তাদের এক নেতা তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত অবস্থায় ধরা পড়েছে। তারা শুধু লাইব্রেরি নয়, পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করেছে। আমরা জড়িত সবার বিচার দাবি করছি।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া হুমকির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন না, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। তারা সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- ১০ দিনের মধ্যে লাইব্রেরিতে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনের আওতায় আনা; ঘটনায় জড়িত রাকসু প্রতিনিধিদের তদন্ত সাপেক্ষে পদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কার; প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত; নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত; ক্যাম্পাসে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; এবং সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।



