প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি ছাত্রীকে পিস্তল ঠেকিয়ে সহপাঠীর হুমকি
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন। অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও বিভিন্ন মিটিং, মিছিল ও কর্মসূচিতে তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত, অনুসরণ ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত না থেকে বারবার চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী রাজি না হলে তিনি একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরে তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু পথে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এছাড়া, আমাদের জানা মতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আজ দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



