মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা কাটাতে ইএফটি চালু করছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে শিগগিরই বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রদানে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুন মাসের ১৬ তারিখ পার হলেও অনেক শিক্ষক বেতন পাননি, ফলে কেউ কেউ আর্থিক সংকটে চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সে সময় প্রকল্প থেকে স্বয়ংক্রিয় ইএফটি ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রকল্পটির বড় ধরনের সংশোধন এনেছে। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ইএফটি কার্যক্রম সংযুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। বাকি সব প্রতিষ্ঠানে এখনও ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। এই সনাতন ব্যবস্থার কারণেই প্রতি মাসে বেতন পরিশোধে বিলম্ব দেখা দেয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্পে ইএফটি কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরাসরি ও দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।



