নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ড. মিলন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে একটি ডিও লেটার পাঠান। অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছিল তার থেকে কিছুটা কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তবে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মোট ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্কুলের বেতন খাতে আরও প্রায় ৫৯৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর পাঠানো ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয়সীমা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান সরকার ঘোষিত ইশতেহারে শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, শিক্ষাখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।



