বৈসাবি উপলক্ষে রাবিতে ৫ দিন ছুটিসহ তিন দাবি আদিবাসী শিক্ষার্থীদের
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতল আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বৈ-সা-বি, চাংক্রান ও চৈত্র সংক্রান্তি, বিষুয়া, বাহা উৎসব উপলক্ষে পাচঁদিন ছুটিসহ তিন দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এই দাবি জানান।
শাখা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মন সংগঠন ও বাংলাদেশ মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে তাঁরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈ-সা-বি, চাংক্রান, বিষুয়া ও চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উদযাপন উপলক্ষে পাঁচদিনের ছুটি ঘোষণা করা, বাহা, কারাম, সোহরাই উপলক্ষে ক্লাস ও সকল প্রকার পরীক্ষা শিথিল করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তাসমূহের উৎসবসমূহ উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগীতা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সহ-সভাপতি রিসার্চ চাকমা বলেন, 'দেশে প্রায় ৪৯ টি জাতিসত্তা রয়েছে। দেশের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী যেমন বাঙ্গালীরা যেভাবে তাদের উৎসব বা সংস্কৃতি উৎযাপন করে আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা তেমন সুবিধা পায় না। রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষপাতীত্ব করে। তবে আমরা ও যে আছি সেটা কারা দেখবে?
তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছরেও স্বারকলিপি জমা দিয়েছিলাম। আমরা চাই সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে একটা ছুটির তালিকায় আমাদের উৎসবের দিন গুলোও যুক্ত হোক। এবং সেই অনুযায়ী প্রতিবছর ছুটি অব্যাহত থাকুক।’
এসময় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শীত কুমার উরাং বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, উৎসব, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। কিছুদিন আগে মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করলো। কিন্তু আমরা যারা আদিবাসী হিসেবে রয়েছি তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারি না। আমাদের দাবি এসব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ছুটি প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী যেমন তাদের উৎসবে ছুটি ভোগ করে, তেমনি সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীরও সমানভাবে উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
মানববন্ধনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দাবিতে সংহতি জানিয়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরারা সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল ও শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ।
ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘কিছুদিন আগেই ঈদুল ফিতর চলে গেল। যার আনন্দ আমরা সারা দেশের মানুষ ভাগাভাগি করে নিয়েছিলাম। ঈদের প্রতি আমাদের যেমন আবেগ তেমনি দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রতি তাদের আবেগ বিদ্যমান। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছরের পরের ও তাদের সাংস্কৃতি বা উৎসব গুলো স্বীকৃতি পায় নি।
এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর উৎসব গুলোর জন্য কোনো ছুটি ও থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘৭১ পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তান যেমনে আমাদের ভাষা সাংস্কৃতির উপর আঘাত করেছিল। তেমনিই আমরা এখন আমাদের সংস্কৃতি উৎযাপনে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছি।’
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ বলেন, আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, 'বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম-আদিবাসী সবাই মিলেই আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশ। তবে আজকে আমাদের এখানে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসদের ছুটির জন্য দাড়াতে হচ্ছে। চাচ্ছে। আমাদের দুর্গাপূজা, ঈদ-দুর্গাপূজা এগুলাতে কিন্তু ছুটি চাইতে হইতেছে না। কারণ এগুলাতে বাংলাদেশের যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী মুসলিম, হিন্দু—এজন্য তাদের যে সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের তাদের যে প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করবে এর জন্য ছুটি চাইতে হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এর চেয়ে মানে খারাপ দিক আর হতে পারে না।’



