বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ ডাকসুর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে বিএনপি জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে অগ্রাহ্য করেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জুলাই সনদে তাদের কৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ডাকসু নেতারা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সেই ফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানো জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
বিবৃতিতে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং তাদের অভিপ্রায়ই সংবিধানের ভিত্তি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একইসঙ্গে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তা গ্রহণ না করে জনরায়কে উপেক্ষা করেছে।
ডাকসু নেতারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। তা বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে সংকট তৈরি করেছে।
তারা অবিলম্বে বিএনপিকে আহ্বান জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। অন্যথায় নতুন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিচার ও নির্বাচন—সবকিছুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ডাকসু নেতারা আরও বলেন, ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীরা শেষ পর্যন্ত জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্তের মুখে করুণ পরিণতির শিকার হয়েছে। তাই দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।



