ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে অধ্যাদেশ জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই অধ্যাদেশ গতকাল রোববার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একাডেমিকভাবে সংযুক্ত থাকবে। খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে কলেজগুলোর স্বতন্ত্র পরিচয় সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সংযুক্ত কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, ঐতিহ্য, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা আগের মতোই বহাল থাকবে। পাশাপাশি কলেজগুলোর বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও অক্ষুণ্ন থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে না ওঠা পর্যন্ত সাময়িকভাবে ভাড়া করা ভবন বা উপযুক্ত স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে। এর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে পাঠদান ও পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, সনদ প্রদান, উচ্চতর গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং শিল্প-একাডেমি সংযোগ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন পদাধিকার বলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি একাডেমিক ডিগ্রি প্রদান ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, গ্রন্থাগারিক এবং বিভিন্ন স্কুল ও সেন্টারের প্রধানরা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। উপাচার্যের নেতৃত্বে ‘সিন্ডিকেট’ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সংস্থা হিসেবে এবং একাডেমিক কার্যক্রম তদারক করবে ‘একাডেমিক কাউন্সিল’। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আধুনিক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র স্থাপন এবং নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থাও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির একাডেমিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকি করবে এবং প্রয়োজনে তদন্ত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ত্রুটি পেলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ মার্চ ইউজিসি রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি প্রত্যাহার করা হয়।
এই অধ্যাদেশ জারির ফলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা।



