লাগামহীন ক্ষমতার তাণ্ডব বাংলাদেশে আর চলবে না: রাবি উপাচার্য
রাবি প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, 'লাগামহীন ক্ষমতার তাণ্ডব বাংলাদেশে আর চলবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত 'গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২৪ এর জুলাই বিপ্লব সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো এই গণভোট। গণভোটের কোনো মার্কা নাই। এটা আমাদের সন্তানদের রক্তের মূল্য দেওয়ার মাধ্যম। ২৪ এ আমরা আমাদের সন্তানদের রক্তাক্ত শরীর নিয়ে টানাটানি করেছি। তখনকার সেই তিক্ত স্মৃতি আমরা সারাজীবন বহন করবো। সাথে সাথে অবশ্যই আমরা তাদেরকে দেওয়া অঙ্গীকার গুলোও বহন করবো। সেই অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবির একটি হলো এই গণভোট।’
উপাচার্য বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী এবং শঙ্কায়িত। সামনের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশে চলমান পরিস্থিতি সত্যিই সন্তোষজনক নয়। যারা মনে করছে ক্ষমতায় গিয়ে আগের মতো রাষ্ট্র চালাবে,তারা ভুল ভাবছে। আমি লিখে দিতে পারি আগের ন্যায় কেউ আর এই রাষ্ট্র চালাতে পারবে না। জুলাইয়ের পরে প্রেক্ষাপটই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আমাদের পরিবর্তন সুনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের আমরা নিজেরাই পরিবর্তন হবো নাকি আবার ধাক্কা খেয়ে পরিবর্তন হবো। তবে বলে দিতে চায়, ধাক্কা খেয়ে পরিবর্তন হলে পূর্বের থেকে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। যারা পূর্বের মতো হয়ে উঠতে চাচ্ছেন, তাদের এসব মনে রাখা উচিত। লাগামহীন ক্ষমতার তান্ডব বাংলাদেশে আর চলবে না।’
আলী রিয়াজ বলেন, ‘বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর জন্য তিনি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করেন। সে সময় তিনি কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দেশের মানুষ কেন ভোট দেবে, আমি যা বলব তাই করো।” এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলী রিয়াজ।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের দিয়ে গঠন করা হতো। একইভাবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ছিল না। ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলা হতো—“তোমরা শুধু পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেবো।” এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন তিনি।’
আলী রিয়াজ বলেন, ‘এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে এবং বারবার প্রতারিত হয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে ফেলার। এই ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি। এজন্য সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সংস্কার প্রস্তাবগুলো তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে অংশ নিতে হবে।’
তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হয়তো সবাই এসব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন না, তবে আমি আশা করি আপনারা বুঝবেন—এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আহত জুলাই যোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও উপাচার্যরা। সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২১টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



