শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ: আমাদের চিন্তার মুক্তি কতদূর' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
রাবি প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ: আমাদের চিন্তার মুক্তি কতদূর বিষয়ক শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ কি করেছে তার থেকে বড় প্রশ্ন আমরা কি করেছি। এবং আমরা মুসলিমদের দুরবস্থা দূর করতে কি করছি?
আমাদের বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা উচিত ছিল। যা আমরা কখনোই পারি নি। বৈষম্য দূর করতে কিছু দিন আগেও আমরা রক্ত দিয়েছি, তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি ঘটে নি। মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে পারি না কারণ আমরা পড়ালেখা করি না। শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের পড়ালেখা ঠিক রাখা।
তিনি আরও বলেন, এই সমাজকে যারা একটু অন্যভাবে দেখতে চাই, যারা সমাজ পরিবর্তন করতে চায়, তারা এ সমাজে টিকতে পারে না। যেমনটা আমরা দেখেছি হাদির ক্ষেত্রে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, 'মুসলিম সাহিত্য সমাজের মূল্যায়নে অতিরঞ্জন ও ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল সমাজে দাঁড়ানোর ও টিকে থাকার এক ঐতিহাসিক প্রয়াস, যা কুসংস্কার ও শাস্ত্রানুগ দাসত্বের বিরুদ্ধে নতুন চিন্তার সূচনা করে।
তিনি বলেন, ১৯২৬–৩৮ সময়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজ সাধারণ মানুষের মুক্তি ও বুদ্ধির স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে এবং আজকের বাংলাদেশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। তবে অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করার প্রবণতায় সমাজটির প্রকৃত ভূমিকা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম সাহিত্য সমাজ নিয়ে অধিকাংশ কাজ সংগ্রহ ও সম্পাদনাভিত্তিক; গভীর বিশ্লেষণমূলক গবেষণার অভাবে এর লক্ষ্য ও তাৎপর্য স্পষ্ট হয়নি। আবু হুসেন ও তাঁর সহযাত্রীদের লক্ষ্য ছিল সমাজকে ভেতর থেকে সংশোধন করা এবং মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখানো।
সেমিনারে রাকসু সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক নয়ন মোরসালিন সঞ্চালনায় স্বগত বক্তব্য রাখেন রাকসু বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্কর। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে ড. কাজল রশীদ শাহীন (সাংবাদিক ও গবেষক),
অ্যাডভোকেট আরিফ খান (সংবিধান বিশেষজ্ঞ) ইমরান মাহফুজ (কবি ও গবেষক), অধ্যাপক কামাল উদ্দীন অতিরিক্ত পরিচালক, (ইনস্টিটিউট অফ কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



