চলতি বছর (২০২৬) দেশের সরকারি আলিয়া ও বেসরকারি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়াই ৭০ দিন ছুটি থাকছে। ২০২৫ সালে মাদ্রাসাগুলোয় সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৫৯ দিন ছুটি ছিল। সেই হিসাবে মাদ্রাসায় ছুটি বেড়েছে ১১ দিন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মাদ্রাসার ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ছুটির তালিকাটি অনুমোদন করে।
তালিকায় এবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এ মাদ্রাসাগুলোর অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা হবে ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
দাখিলে নির্বাচনি পরীক্ষা হবে ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। এবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা ও আলিমের নির্বাচনী পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে।
নতুন বছর মাদ্রাসাগুলোয় সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া সর্বোচ্চ ৩০ দিন ছুটি থাকবে পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জুমআতুল বিদা, লাইলাতুল কদর, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এ ছুটি ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছুটি থাকবে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ১৫ দিন। ২৪ মে থেকে ১১ জুন চলবে এ ছুটি। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধানের সংরক্ষিত ছুটি থাকবে ৩ দিন। সংরক্ষিত ছুটি ভোগ করতে হবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়ে।
সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন নির্ধারণ করায় প্রতিটি মাদ্রাসায় যথাযথ পাঠপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সিলেবাস শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ তালিকায়।
ছুটির তালিকায় আরও বলা হয়েছে, হাওর অঞ্চলের বোরো ধান কাটা উপলক্ষে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তাই হাওর অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোর প্রধানরা মোট ছুটি ঠিক রেখে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে সমন্বয় করে ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন।
কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া যাবে না। সংবর্ধনা বা পরিদর্শন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করা যাবে না। সংবর্ধিত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না।
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও অন্যান্য জাতীয় দিবস বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বলা হয়েছে ছুটির তালিকায়।
পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলে মাদ্রাসায় পরীক্ষার সময় বিকল্প ব্যবস্থায় ও কেন্দ্র ছাড়া অন্য মাদ্রাসায় শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। ক্লাস বন্ধ করা যাবে না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে শনিবার (কোনো জাতীয় দিবস না থাকলে) বিশেষ বা অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে পারবে।
সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুলগুলোতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ছুটি ‘কমেছে’। গত বছর এ স্কুলগুলো শিক্ষার্থীরা শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৭৬ দিন ছুটি কাটিয়েছিলেন, এ বছর তারা সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৫৬ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।
এদিকে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে ছুটি এক দিন বেড়েছে। গত বছর কলেজের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৭১ দিন ছুটি কাটালেও চলতি বছর সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৭২ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।



