জাকসু নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ভোট ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে এই অভিযোগ তুলেছেন ঐক্য ফোরাম প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম।
তিনি বলেন, “পোলিং এজেন্টদের নিয়ে কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা চলছে—কেউ ঢুকতে পারছেন, কেউ পারছেন না।” একই অভিযোগ করেন ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি। তিনি বলেন, “শুরুতে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, ভোট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা চলছে।”
ফারিয়া আরও অভিযোগ করেন, “হল এলাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা এবং শুধু শিবির সমর্থিত প্যানেলের পোস্টারই বিভিন্ন বোর্ডে দৃশ্যমান।”
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধিকাংশ প্রার্থী। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত প্যানেল পরস্পরকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
শিবিরের ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব বলেন, “সালাম-বরকত হলে ১০১টি অতিরিক্ত ব্যালট পাঠানো হয়েছে, যা প্রশাসন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। সিদ্ধান্ত ছিল কোনো হলে অতিরিক্ত ব্যালট যাবে না।”
ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান বলেন, “প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক অবস্থান আমাদের শঙ্কিত করছে। অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানো হয়েছে একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে।”
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২১টি হলের ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ১১,৭৪৭ জন। নির্বাচনে ১৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন, জিএস পদে ৯ জন, নারী এজিএস পদে ৬ জন এবং পুরুষ এজিএস পদে ১০ জন।
ভোটাররা মোট ৪০টি ব্যালটে ভোট প্রদান করেন, যা ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ নারী, তবে ভিপি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। মেয়েদের হলগুলোর পাঁচটিতে ১৫টি পদে কোনো প্রার্থী নেই।
এবারের নির্বাচনে বাম, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেল অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।



