শিবিরের পক্ষে কারচুপির অভিযোগ আনলেন তিন ভিপি প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১০ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের পক্ষে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন তিন ভিপি প্রার্থী।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচনে সকাল থেকে স্বাভাবিক ভোটগ্রহণের মধ্যেই শিবিরের ভোট কারচুপির প্রমাণ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্যের ভিপি মনোনীত প্রার্থী উমামা ফাতেমা, ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম আবিদ ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সমর্থিত প্রার্থী সহসভাপতি (ভিপি) পদে দাঁড়ানো তাহমিনা আক্তার।
ভোট কারচুপির অভিযোগে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে তাহমিনা আক্তার বলেন, আগে থেকে শিবির প্রার্থীর পক্ষে পূরণ করা ব্যালট দিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে জালিয়াতি করে তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য প্রহসনের ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এ ভূয়া নির্বাচন বর্জন ও বয়কট করলাম। শিবিরের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ভিসি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে তাদের পদত্যাগ দাবি করছি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে উমামা ফাতেমা নিজের ফেসবুকে শিবিরের জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।
উমামা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সোমবার রাতে লেখেন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ভোট কেন্দ্রের বাইরে এই লিফলেটগুলা দেয়া হচ্ছে। যার এক প্রান্তে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীদের তালিকা আর অপর প্রান্তে হলের স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করা প্রার্থীদের তালিকা। গুঞ্জন শোনা গেছে এই লিস্টটি পোলিং বুথের ডেস্কের নিচে ছড়ানো আছে। এছাড়া, অনেক প্রার্থীর আইডি অলরেডি গায়েব করে দেয়া হয়েছে। হল সংসদ কিংবা সেন্ট্রাল, যাদেরই প্রতিপক্ষ মনে করা হচ্ছে, তাদের এভাবে রিপোর্ট মারা হচ্ছে।
পোস্টে উমামা ফাতেমা আরও লেখেন, ডাকসুর শুরু থেকেই আমার আইডিতে রিপোর্ট মেরে রিচ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আইডিটাও গায়েব করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কারা করছেন ও কেন করছেন, তা আমরা সবাই জানি। আপনারা নেতৃত্বে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে কেমন নিরাপদ থাকবে, ভিন্নমতের মানুষেরা কীভাবে মতপ্রকাশ করবে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সচেতন। এভাবে নোংরামি করে আর যা-ই হোক ভোটে জেতা যাবে না।
ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানও অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। দুপুরের পর থেকে আমরা কারচুপির অভিযোগ পেয়েছি। নিজে অমর একুশে হলে গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোলাইটলি কথা বলেছি। তারা স্বীকার করেছে, কিছু ঘটনা ঘটেছে। রোকেয়া হলে থেকেও একই অবস্থা দেখা গেছে। সকাল থেকে পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্যানেল শিট বিতরণ করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছে। রোকেয়া হলের পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থীকে কেবল কোড নম্বর বিতরণের কারণে ছাত্রত্ব শেষ করার হুমকি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ ধৈর্যের সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন। প্রশাসনকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।



