চবিতে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার পর শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দর্শন বিভাগের এক ছাত্রীকে স্থানীয় একটি ভবনের দারোয়ান মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ছাত্রী বাসায় ফিরতে গেলে দারোয়ান দরজা খুলছিলেন না। একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তিনি ছাত্রীকে চড়-ধাক্কা ও লাথি মারেন। ছাত্রী তার এক বন্ধুকে ডাকলে তাকেও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে রাত ১টা ৪০ মিনিটে, যখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জোবরা গ্রামের শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
রাত তিনটার পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিভিন্ন ভবনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
আহতদের মধ্যে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—সজীব (২৪), মোহাম্মদ ইসমাইল (২৫), হুমায়ুন (২২), সাদমান (২৪), ইশতিয়াক (২৪), আবু নাসিম (২৩), হাসান জোবায়ের হিমেল (২৫), ইদ্রিস (২৫), মনির (২২), মাহিন (২৩), রাতুল (২১), শিহাব (২২), আলমাস মাহফুজ (২৫), বাইজিদ (২০), দিগন্ত (২৫), ওয়াহিদউদ্দিন, নাজমুল (২৫), ফুয়াদ (২১), রাকিব মাহবুব রুমি (২৪), রিপন মিয়া (২১), সিফাত আদনান (২২), আকিব (২২), আরমান (২৫), দুর্জয় (২২), মোকাব্বির (২৪) প্রমুখ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আল মাসনূনকেও কোপানো হয়েছে। সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আল মাসনূনসহ আমাদের অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ জানান, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য নাজমুল ও কোরবান স্যারও আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ভোর ৫টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর শাহরিয়ার জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছি। আরও একটি টিম ভেতরে কাজ করছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে তদন্তের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



