আগের যে প্রকল্পগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হতো সেগুলো অব্যাহত আছে : ড, দেবপ্রিয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এবং করের আওতা বাড়ানোর মতো নতুন কোনো কিছু না থাকায় এবারের বাজেটে নতুন কোনো চমক থাকছে না। যে প্রকল্পগুলো সরকারের কাছে আছে তা অতিমূল্যায়িত ও তার ৪০ শতাংশ ব্যয়ই ভুয়া। আগের যে প্রকল্পগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হতো সেগুলো অব্যাহত আছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি, ব্যাংক জালিয়াতি, করখেলাপি ও পাচারকৃত অর্থ জব্দের মাধ্যমে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করলে তা হতে পারে এবারের বাজেটের একটি অভিনব উৎস। গত সরকারের রেখে যাওয়া বিদেশী ঋণের চাপ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ সরকারের এই সময়কালের অন্যতম সাফল্য ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে বিদেশী ঋণের চাপ কমিয়ে আনা। যা বছর বছর বাড়ছিল।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এই সরকারের সাফল্যের জায়গাটা হলো বহিঃখাত, রেমিট্যান্স, রফতানি, দায়দেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, মজুদ বাড়ানো ও টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রাখা। দুঃখজনকভাবে এবারের বাজেটও গতানুগতিক হতে যাচ্ছে।
আজ শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা আসন্ন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজকে পরাজিত করে ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এবং করের আওতা বাড়ানোর মতো নতুন কোনো কিছু না থাকায় এবারের বাজেটে নতুন কোনো চমক থাকছে না। যে প্রকল্পগুলো সরকারের কাছে আছে তা অতিমূল্যায়িত ও তার ৪০ শতাংশ ব্যয়ই ভুয়া। আগের যে প্রকল্পগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হতো সেগুলো অব্যাহত আছে। রাজস্ব ব্যয় সঠিকভাবে না করলে করদাতাদের উৎসাহ থাকে না। আমাদের কর কাঠামো বৈষম্যনির্ভর। আমাদের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা অর্জিত হলেও, ব্যক্তি খাতে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ এখনো আশানুরূপ অর্জিত হয়নি।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কর ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অন্যায্যতা বহাল রেখে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। আমাদের মতো দেশে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত বিগত আমলের অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ ও ঋণ খেলাপিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের নাম প্রকাশ করে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করা। তা না হলে ক্ষমতার পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে শোষণ ও দুর্নীতির পালা বদল হবে।



