Logo
Logo
×

অর্থনীতি

আগাম শীতের সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম

আগাম শীতের সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি নেই। টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। 

অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য। ফলে সবজি কিনতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংসের পেছনে ক্রেতাদের আগের মতোই বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু সবজি এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।

অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। শসার ক্ষেত্রেও রয়েছে দামের পার্থক্য। প্রতি কেজি দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।

আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

মাংসের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম অয়েল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন