শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান জানতে বাজারে বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১২২ ডলার ৭৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ ডলারে লেনদেন হয়।
এদিন মার্কিন ডলার সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ডলারভিত্তিক মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে অনেক বিনিয়োগকারী বড় অবস্থান নিতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে কতটা সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট হলে বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
সাম্প্রতিক দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্যের পর বাজারে ধারণা জোরালো হয়েছে যে, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৮৬ শতাংশ।
এদিকে কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ শ্মিড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধির পরিবেশ সাধারণত স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সরকারি ঋণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয় কার্যক্রম স্বর্ণের দামকে কিছুটা সহায়তা করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ জ্বালানি মূল্য, রেকর্ড পরিমাণ সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগসংক্রান্ত ঝুঁকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অন্যদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটি আরও স্বর্ণ কিনেছে, যার মাধ্যমে টানা ২৩ মাস ধরে স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে, প্লাটিনাম ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৪৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৪০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে।



