Logo
Logo
×

অর্থনীতি

নিত্যপণ্যে ফের অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

নিত্যপণ্যে ফের অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

রাজধানীসহ দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপণ্যর স্বাভাবিক সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও বাড়ছে দাম। এর ফলে অস্বস্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। অস্থিরতা তৈরি করা সেই অসাধু চক্র কারা?

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানী বিভিন্ন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙা, করলা ও চিচিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলা হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা রোমান বলেন, আমাদের কাছে পাইকারি দামও খুব একটা কমেনি। তাই খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এর সঙ্গে চাল, ডাল, মাংস ও ডিমের বাড়তি দামে চরম চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা। সঙ্গে ডালের দাম ঠেকেছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়। এছাড়া খুচরা বাজারে গরুর মাংস ৮৫০ ও ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার, রামপুরা কাঁচাবাজারসহ একাধিক বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়, যা গত শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪৫ টাকায়। প্রতিকেজি নতুন ও পুরোনো আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়, যা চার দিন আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এই সময়টাতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ ও আলুর দাম নিয়ে কারসাজি শুরু করে। সংকটের অজুহাতে বাড়ায় দাম। এবারও একই অবস্থা সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে এই দুটি পণ্য সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। যার যৌক্তিক কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। বাজারের কোথাও এই দুই পণ্যের সরবরাহ ও জোগানে কোনো ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে মাংসের দামেও ক্রেতার নাভিশ্বস। ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৫০ টাকা। প্রতিকেজি খাসির মাংস ১২০০ টাকা। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা, দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি হালি (৪ পিস) ফার্মের বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কিছুটা কমলেও মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি চালে সর্বোচ্চ ৪ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি সরু চালের মধ্যে মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮৫ টাকা, যা আগে ৭২ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ৫২-৬৮ টাকা।

মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০ ও সরু দানা ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবতার চেয়ে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতাই নিত্যপণ্যের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে। কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন