আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ, থাকছে না বিশেষ কর সুবিধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো কোনো বিশেষ কর সুবিধা রাখা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রথম বাজেট।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ৩০ জুন বাজেট সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করে থাকলে, তা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে।
ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে এই করের হার হবে ৩০ শতাংশ। আর কোনো বিক্রেতা সম্পত্তি বিক্রির সময় প্রকৃত মূল্য গোপন করলে তাকে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনী কর দিতে হবে।
তবে করদাতার বিরুদ্ধে আগে আয়কর আইনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে স্বপ্রণোদিত ঘোষণার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা কর দিতে হবে।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এ সুযোগ বাতিল করে।
নতুন নিয়মে অতীতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শন করলে বিনিয়োগ বা অর্থের উৎস নিয়ে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে ঘোষণার আগে কোনো ব্যক্তি আদালতে অপরাধমূলক কার্যক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে বা তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকলে তিনি এ সুবিধা পাবেন না।



