Logo
Logo
×

অর্থনীতি

রমজানের প্রথম শুক্রবারে বাজারে চড়া, মাছ–মাংসে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

রমজানের প্রথম শুক্রবারে বাজারে চড়া, মাছ–মাংসে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

রমজানের প্রথম শুক্রবারে রাজধানীর বাজারে যেন ভিড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চড়েছে দামও। সাপ্তাহিক ছুটির বাজার আর ইফতারের বাড়তি আয়োজন মিলিয়ে মাছ ও মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দামে উল্লম্ফন দেখা গেছে।

রাজধানীর রামপুরা বাজার ও বনশ্রী ‘এ’ ব্লক কাঁচাবাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগি, গরুর মাংস ও মাঝারি মানের কয়েকটি মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, যেখানে গত সপ্তাহে তা ছিল ১৮০ টাকার আশপাশে। লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতাদের দাবি, রমজানে ইফতার ও পারিবারিক আয়োজন বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ভালো মানের দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।

রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহে যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা গৃহিণী রাশিদা খাতুন বলেন, রমজানে মুরগির মাংসের চাহিদা একটু বেশি থাকে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা ও পাইকারি দামের চাপই মূল কারণ। এক মুরগি বিক্রেতার ভাষ্য, খামার পর্যায় থেকেই সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, পরিবহন খরচ ও বরফের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেশি, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আপাতত এ পণ্যে দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

রমজানের শুরুতেই বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা পুরো মাসজুড়ে অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্রেতারা। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে রোজার মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন