নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
সরাসরি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়িয়ে এবং নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই নতুন মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি বা সংকোচনের একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার—জানুয়ারি–জুন এবং জুলাই–ডিসেম্বর সময়ের জন্য—মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি রয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে।
নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অর্থ জমা রাখলে প্রযোজ্য স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা রেখে না দিয়ে বিনিয়োগে মনোযোগ দিক। সে কারণেই এসডিএফ সুদহার কমানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরও কমানো হবে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে তুলনামূলক বেশি থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি খাতেও ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম ছিল। নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের ঋণ গ্রহণ দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে।



