ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ল, স্বস্তিতে ডিম ও মাছ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজানকে ঘিরে এখনই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমের দামে উঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে মাংস ও ডিমের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। তবে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে ব্রয়লার মুরগির বাজারে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহেও এই দাম ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
একইভাবে বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দামও। বাজারে এই মুরগি কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।
মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায় এবং সাদা রঙের ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।
মাছের বাজারে গেলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম মোটামুটি সহনীয় রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৬০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, শিং ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, টাকি ৩০০ টাকা এবং শোল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। তবে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেখা গেছে, গরু ও মুরগির তুলনায় মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। হঠাৎ করে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই বিকল্প হিসেবে মাছের দিকে ঝুঁকছেন। বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, দাম বাড়ার কারণে মুরগির বিক্রি কিছুটা কমে গেছে।
রায়ের বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সংকট রয়েছে। সে কারণেই দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাবছিলাম ১৬০–১৬৫ টাকার মধ্যে মুরগি পাব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি ১৯০ টাকা কেজি। তাই মুরগি না কিনে মাছ কিনে নিয়ে যাব।
ডিম বিক্রেতা মনতাজ উদ্দিন জানান, বাজারে শীতকালীন সবজি বেশি থাকায় ডিমের চাহিদা তুলনামূলক কম, ফলে দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাদামি রঙের ডিমের প্রতি ডজন ১১০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
রমজান সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে এখন নজর রাখছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা—দু’পক্ষই।



