বিপিসিকে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সংকট এবং অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির মধ্যে সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি কমবে এবং সংকটের কিছুটা প্রশমণ ঘটবে।
তবে বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এলপিজি পরিবহনের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত লাইটারেজ জাহাজ এবং ডেডিকেটেড জেটি, যা বিপিসির নেই। ফলে এখনই আমদানি শুরু করা সম্ভব নয়। বিপিসি কেবল বাল্ক বা খোলা এলপিজি আমদানি করবে, পরে বেসরকারি অপারেটররা সিলিন্ডারজাত করে বাজারে ছাড়বে; সরাসরি খুচরা বিক্রিতে বিপিসি জড়িত হবে না।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এলপিজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। ২০২৩ সালে ১২.২৩ লাখ টন, ২০২৪ সালে ১৪.৪২ লাখ টন এবং ২০২৫ সালে ১৪.৬৫ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে দাম এখনও সরকারি দামের অনেক ওপরে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রি হচ্ছে ১,৭৫০–২,১০০ টাকায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, সংকটের মূল কারণ আমদানির ঘাটতি নয়, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব। বিপিসির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বাজারের ৯৮–৯৯ শতাংশ এলপিজি বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে; মাত্র চারটি কোম্পানি বাজারের ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সরবরাহ বাড়ালেও দাম ও বিতরণে সিন্ডিকেটের প্রভাব কমানো সহজ হবে না।
বিপিসি এখন ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। ছোট চালানে আমদানি বা ভাড়া করা লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে সংকট দূর হবে না।



