ডিমের দামে স্বস্তি, চড়া মাছ আর স্থির মুরগিতে চাপেই বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে, ফলে খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম আগের তুলনায় কমেছে। তবে এই স্বস্তি শুধু ডিমেই সীমাবদ্ধ। মাছের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ডজনপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দামও কিছুটা কমে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম নেমে এসেছে ৮ টাকার নিচে।
রামপুরা বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, দাম কমলেও ডিমের বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অনেক ক্রেতাই ডিম কম কিনছেন।
এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতাদের মতে, এই দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
মুরগির বাজারেও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা প্রায় সমান থাকায় দামে কোনো বড় পরিবর্তন হচ্ছে না।
বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি বেশি দিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম স্থির রয়েছে।
তবে কিছু ক্রেতার অভিযোগ, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ আছে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম কমছে না, অথচ বাজারে কোনো সংকটও চোখে পড়ে না।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া। কোরাল মাছ কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।
চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া ইলিশের বাজারেও কোনো স্বস্তি নেই। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় নেই। ডিমের দামে স্বস্তি মিললেও মাছের উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সরবরাহ ও বিকল্প পণ্যের প্রভাব ডিমের দামে পড়লেও মুরগি ও মাছের ক্ষেত্রে সেই চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মুরগি ও মাছের বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষা এখনো কাটেনি।



