এলপি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় জরুরি আমদানিতে যাচ্ছে বিপিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
দেশে চলমান এলপি গ্যাসের তীব্র সরবরাহ সংকট কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে এলপি গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নিজস্ব অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে আমদানিকৃত এলপি গ্যাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে বিপণনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
তবে কবে নাগাদ এই আমদানি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাতে পারেনি বিপিসি বা জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলপি গ্যাস আমদানির অনুমতি চেয়ে গত শনিবার জ্বালানি বিভাগে চিঠি পাঠায় বিপিসি। পরে গতকাল বুধবার সেই অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের সংগঠন লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর এক কর্মকর্তা।
বর্তমানে দেশে মাসে প্রায় দেড় লাখ টন এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় পুরোটা জোগান দেয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো। বিপিসির বাজার অংশীদারত্ব মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি সময়মতো এলপি গ্যাস আমদানি করতে না পারায় প্রায় এক মাস ধরে দেশজুড়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়। এ সুযোগে এলপি গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। তাতেও অনেক এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও দোকানগুলো সিলিন্ডারশূন্য, আবার কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
সংকট নিরসনে চলতি মাসের শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একাধিক দফায় বৈঠক করেছে। বেসরকারি কোম্পানির আমদানির ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না।
বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংস্থাটির নিজস্বভাবে এলপিজি খালাস ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন জেটিভিত্তিক পাইপলাইন, ফ্লোমিটার বা স্টোরেজ ট্যাংক নেই। তবে দেশে বিদ্যমান বেসরকারি এলপিজি অপারেটররা কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র এলাকায় এলপিজি বহনকারী জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে নিজস্ব টার্মিনালে সংরক্ষণ করে থাকে। একই পদ্ধতিতে আগ্রহী বেসরকারি অপারেটরের লাইটারিং জাহাজ ব্যবহার করে বিপিসিও এলপিজি খালাস ও বণ্টনের ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ জন্য লোয়াবের সঙ্গে আলোচনা করে কোন কোন অপারেটর আগ্রহী, কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি প্রয়োজন, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি এবং খালাস ও বণ্টন প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি। অতীতে জ্বালানি তেলের আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় বিপিসির তালিকাভুক্ত (জি-টু-জি) সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোটেশন আহ্বানের মাধ্যমে অতিরিক্ত আমদানির নজির রয়েছে। একইভাবে এবারও তালিকাভুক্ত জি-টু-জি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক আজকের পত্রিকাকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে পারে।
অন্যদিকে লোয়াবের মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, গতকালই আমরা জেনেছি যে বিপিসি এলপি গ্যাস আমদানির জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। একই দিনে বিইআরসি একটি বৈঠক করেছে, আজ আবারও আলোচনা হবে। বিষয়টি কিছুটা জটিল। কোন কোম্পানির কতটা চাহিদা রয়েছে, তা নিরূপণ করেই আমদানির পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



