টানা সাত মাস ধরে কমছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে দেশের বেসরকারি খাতেও। গত সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি টানা কমছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণপ্রবাহের এই ধারাবাহিক পতন ঘনীভূত সংকটেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপের কারণে সংকট আরও গভীর হতে পারে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া মানে নতুন বিনিয়োগ থমকে যাওয়া। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারির ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার (৯ দশমিক ৮ শতাংশ) চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। ২০০৪ সালের পর এত কম ঋণপ্রবৃদ্ধি আর হয়নি।
ব্যাংকঋণের সুদের হার এখন ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে অনাগ্রহী। যদিও মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী, তবু অর্থনীতিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছিল ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে। এরপর থেকে ক্রমেই নিম্নমুখী। ২০২৩ সালের মে মাসে এটি হয় ১১ দশমিক ১০ শতাংশ, আর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেমে আসে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশে।
এ পরিস্থিতিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফল বলছেন ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও এবিবির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে, ফলে ঋণের সুদও বেড়েছে। এতে ঋণপ্রবাহ কমেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও প্রভাব আছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “দেশে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আইনশৃঙ্খলা খারাপের দিকে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় উদ্যোক্তা—কেউই স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালাতে পারছেন না।” তার মতে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্মেলনগুলো আশার সঞ্চার করছে।



