‘ছোটমাছ’ যেন সোনার হরিণ, তেলাপিয়া-পাঙ্গাসও যাচ্ছে সাধ্যের বাইরে!
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪১ পিএম
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—একসময় এই প্রবাদটিই ছিল বাংলাদেশের মানুষের পরিচয়। ভাতের সঙ্গে মাছ, বিশেষ করে ছোট মাছ, ছিল সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের আহার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দিন দিন মাছ যেন হয়ে উঠছে একপ্রকার বিলাসী পণ্য। বিশেষ করে একসময়ে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ভরসার ছোট মাছ, তেলাপিয়া কিংবা পাঙ্গাসও এখন যেন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে। এই অবস্থায় ভোক্তারা নীরব ক্ষোভে ফুঁসলেও মধ্যসত্তভোগীদের দায়ী করে দায় এড়িয়েছেন বিক্রেতারা।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বৃদ্ধি, নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রজননক্ষেত্র রক্ষার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী মাছ চাষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণও জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরাসহ একাধিক বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩.৬% এবং কৃষিভিত্তিক খাতের অবদানের অংশ প্রায় ২৫%। এছাড়া দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছ চাষ, আহরণ, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষে এবং মোট মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে। ২০২৩ সালে দেশে মাছ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু এই উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল সাধারণ ভোক্তার পাতে পৌঁছাচ্ছে না।
ছোট মাছ যেন সোনার হরিণ
গবেষণা বলছে, ছোট মাছ (যেমন- মোলা, কাচকি, পুঁটি, শিং, কই) পুষ্টিগুণে ভরপুর। এগুলো ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আগে গ্রামাঞ্চলের সহজলভ্য ছোট মাছ এখন হ্রদ, নদী ও খাল দখল, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত আহরণের কারণে কমে গেছে। ফলে সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারদর বেড়েছে কয়েকগুণ।
বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে ছোট মাছের মধ্যে মলা মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পুঁটি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বাইলা মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, আর চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়।
রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ছোট মাছ খেতাম। এখন বাচ্চাদের জন্য মাঝেমধ্যে অল্প করে কিনি, আর বাকি সময় পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, রুই মাছে চলে যায়। তবে মাছের বাইরে ব্রয়লার মুরগির মাংস বা ডাল দিয়েই চালাই।
তিনি বলেন, ছোট মাছ এক সময়ে ছিল গরিব মানুষের খাবার। বিশেষ করে পুটি, মলা কিংবা ট্যাংরা এখন পরিণত হয়েছে। দাম বাড়তি থাকায় এসব মাছ এখন চলে যাচ্ছে ধনীদের প্লেটে।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, জেলেদের জাল খরচ, পরিবহন খরচ আর বরফের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। রামপুরা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, এখন নদীতে মাছ কম। আবার যা আসে তা আনতে খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ। আগে যেখানে এক ট্রাকে ৫ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেটাই হচ্ছে ১০-১২ হাজার। সেই খরচ তো আমাদেরই তুলতে হয়।



