বাংলাদেশ ব্যাংক
অব্যবস্থাপনা, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির কারণে দেশের ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ (অবসায়ন) করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) গভর্নরের অনুমোদন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়ন করা হবে। এ সময় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কর্মরত কর্মচারীদের চাকরিবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি ও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিশাল অংশই খেলাপি। উদাহরণস্বরূপ, এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ৯৯.৯৩ শতাংশ খেলাপি; ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ শতাংশ; আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের প্রায় ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা খেলাপি, যা ৯৬ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের খেলাপি ঋণও ৯৫ শতাংশের বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি মেটাতে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখতে হতে পারে।
বর্তমানে দেশে ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান সমস্যাগ্রস্ত, যাদের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশে। বিপরীতে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৩১ শতাংশ এবং তারা লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।



