নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক ঘর বাড়ি
কাজী খলিলুর রহমান
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম
ছবি: যুগের চিন্তা
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সোয়া লাখ মানুষ। পানিতে দফায় দফায় প্লাবিত হয়ে জেলার মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলায় অন্তত ছয়টি চরের বেরীবাধের বাইরে ও ভীতরে থাকা মানুষ পানি বন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
জেলা দূর্যোগ ও ত্রান ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, জেলার ৮টি উপজেলায় সম্পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৯ টি বসতঘর ও আশিংক ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ২৭৭ টি ঘরবাড়ী। জেলায় মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ১৩০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলেও জানা গেছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত দেবনাথ জানান, উপজেলার চর মোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া, চর নজির, চর আন্ডাসহ ছয়টি চরে দফায় দফায় প্লাবিত হয়ে অন্তত ১১ হাজার পরিবারের ৩৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে পানির চাপ কমে গেছে। এতে ৬০টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা বলেন, উপজেলার তিনটি পয়েন্টে পানি ঢুকে ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিন থেকে চার ঘন্টা এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দী ছিল। পরে ভাটার টানে পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতি কম হয়েছে। তারপরেও গাছপালা উপরে পরে ৪ টি বসতঘর সম্পুর্ন ও ৫২ টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এছাড়াও জেলার গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল উপজেলার অর্ধশত চর এলাকার নিম্মাঞ্চল উচ্চ জোয়ারের দফায় দফায় প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, পানির চাপে কিছু এলাকার বেরীবাধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে তেমন বেশী কোথাও ক্ষতি হয়নি। গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের তেতুলবাড়ীয় এলাকার একটি পয়েন্টে ১২০ মিটার বেরীবাধ বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খুব দ্রুততার সাথেই ওই জায়গাটি মেরামত করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বেরীবাধ কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
স্থল ও গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে গত ৪৮ ঘন্টায় ১৮৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুবা সূখী।



