বগুড়ায় চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৬১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
বগুড়া অফিস
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ১০:১৮ এএম
ছবি: যুগের চিন্তা
বগুড়ায় চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত একটানা মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৬১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।
তিনি জানান, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার এবং সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ (শুক্রবার) সারাদিনই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়ার এমন আচমকা পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সাতমাথা, বড়গোলা, শহীদ খোকন পার্ক, ঠনঠনিয়া, রহমান নগর, নবাববাড়ি রোড, বাদুড়তলা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ড্রেন উপচে পড়ায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে করে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে ছুটির দিনে বাজারে আসা লোকজন বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই ছাতা নিয়ে বাজারে এলেও রাস্তায় জমে থাকা পানি পেরিয়ে বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের নিউমার্কেট, স্টেশন বাজার, জিলা স্কুল রোড ও কলেজ রোড এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিবাটাও ছিল অনেকটা কম।
নগরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থা চললেও বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে শহরের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে বৃষ্টির কারণে শহরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলেও কাঁচা রাস্তাগুলো কাদায় একেবারে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একটানা বৃষ্টিতে মাঠে নামা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক দিনের বৃষ্টিতেই বগুড়ার জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।



