৭ নভেম্বরের চেতনায় যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে: খোকন
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অতীতে যেমন চক্রান্ত হয়েছে, এখনও গভীর চক্রান্ত চলছে। তবে ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল আয়োজিত তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান এর জীবন, দর্শন কর্মের উপর কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন ।
খায়রুল কবির খোকন আরো বলেন, জিয়াউর রহমান বীরউত্তম শুধু একাত্তরের মহান স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তিনি নিজে হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। যুদ্ধ শেষে তিনি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আবার ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ তাকে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়েছিল। কারণ তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব ছিল না। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা 'বাকশাল' কায়েম করেছিল। মাত্র তেরো মিনিটের ব্যবধানে সংসদীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে মানুষের মুখ ও বাকস্বাধীনতার ওপর শৃঙ্খল পরানো হয়েছিল। সেই সময় দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এবং রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড় করানো হয়েছিল। শুধু সরকারি চারটি পত্রিকা বাদে সব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, "জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন, আমরা ভাষায় বাঙালি হলেও জাতিতে বাংলাদেশি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে খোকন বলেন, "শেখ হাসিনার সরকার ইতিহাস বিকৃত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল। তারা ৭ই নভেম্বরের রাষ্ট্রীয় ছুটিও বাতিল করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, আজ তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে আজ তারা ক্ষমতাচ্যুত ও দলীয়ভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭ই নভেম্বরের ছুটি পুনর্বহাল করেছে।
আলোচনা সভা শেষে নরসিংদী পৌর ঈদগাহ মাঠ থেকে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গ সংগঠনে নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়।



