Logo
Logo
×

সারাদেশ

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল প্রথম জাহাজ

Icon

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল প্রথম জাহাজ

নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া নামের একটি জাহাজের যাত্রার মধ্যদিয়ে শুরু হয় এই প্রক্রিয়া। 

তবে যাত্রার প্রথম দিন জাহাজটি ৮৫০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে ১০০০ বেশি যাত্রী নিয়ে গেছে। যদিও ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাপে এই যাত্রীর সংখ্যা ৮৮৬ জন।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাত্রীসংখ্যা ৮ শতাধিক হওয়ায় প্রথম দিন একটি জাহাজ ছাড়া হয়েছে। যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁরাই আজ যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক।

কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের সার্বিক বিষয় নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। আশা করছি, এই যাত্রার মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আমরা জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছি। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি।

এর আগে গতকাল বুধবার দিনভর নানা নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার পর আজ বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় জেলা প্রশাসন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার তিনটি জাহাজ চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার ভিত্তিতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রিও শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর জাহাজ চলাচল শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে রাত ১০টার দিকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যাবে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী,  সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বার আউলিয়া বিকেল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল সোয়া সাতটায় যাত্রা করে বেলা সোয়া দুইটায় ফিরবে। আর এমভি টেকনাফ সকাল সোয়া আটটায় যাত্রা করে বিকেল সাড়ে তিনটায় ফিরবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন