Logo
Logo
×

সারাদেশ

বেলা আয়োজিত আলোচনা সভায়, বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধারে ১৩ প্রস্তাব

Icon

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

বেলা আয়োজিত আলোচনা সভায়, বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধারে ১৩ প্রস্তাব

কক্সবাজারের অন্যতম নদী বাঁকখালী পুনরুদ্ধারে ১৩ টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে নানা শ্রেণীপেশার মানুষ। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)  আয়োজিত‘দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত বাঁকখালী নদী: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বুধবার বেলা ১১ টার দিকে কক্সবাজারে একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা।

সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব সমুহ হল,  নদী মূল ও বর্তমান প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করা, সীমানার মধ্যে থাকা সকল দখলদারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতপূর্বক কার্যকরভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা ও পরবর্তীতে সেটার মনিটরিং ও ফলোআপ করা, সকল দূষণের উৎস বন্ধ করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, কঠোরভাবে নদী সংলগ্ন পাহাড়কাটা বন্ধ করা, নদী তীরে বা নিকটবর্তী স্থানে তামাক চাষ বন্ধ করা, নদীর কোনো জায়গা ইজারা প্রদান না করা এবং ইতোপূর্বে ইজারা প্রদান করা হয়ে থাকলে তা বাতিল করা, দু’তীরে উপকূলীয় বন সংরক্ষণ করা ও ক্ষয় বন দেশিয় প্রজাতির বৃক্ষ দ্বারা বনায়নের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা, নদীতে থাকা রাবার ড্যাম অপসারণ করা, পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং-এর মাধ্যমে নদীর পূর্বের গভীরতা ও প্রসারতা ফিরিয়ে আনা, ডক ইয়ার্ডের স্থান পরিবর্তন, কস্তুরাঘাট থেকে ময়লার ভাগাড় এর স্থান পরিবর্তন করা, বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধ রিসোর্ট গড়ে উঠতে না দেয়া, বাঁকখালীর রামু অংশের বালুমহালের ইজারা বাতিল করা।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও বেলার লিগ্যাল কোঅর্ডিনেটর এস. হাসানুল বান্না। তিনি বলেন, বেলা কর্তৃক দায়েরকৃত জনস্বার্থূমূলক মামলার রায়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ গত ২৪ আগস্ট, ২০২৫ বাঁকখালী নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা এবং দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। কিন্তু বাকঁখালী নদীর প্রধান সংকট হিসেবে নদীর সীমানা চিহ্নিত না করা, অবৈধ দখল ও দূষণকে অবহিত করেন। বাকঁখালী নদীতে বারবার অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা ছিলো না।

আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁকখালী নদী বান্দরবান জেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে মহেশখালী চ্যানেলে পতিত হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী হিসেবে বাঁকখালী নদীর অবদান বহুমাত্রিক। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া যাতায়াতের প্রধান পথই ছিল এ বাঁকখালী নদী। প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে বিভিন্ন এলাকার শত শত জাহাজ, ট্রলার এ নদীতে আশ্রয় নিত। বাঁকখালী নদীর দু’পারে অবস্থিত উপকূলীয় বনের সবুজ বেষ্টনী আশেপাশের জনবসতিকে রক্ষা করে আসছিল সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। এ নদীতে একসময় প্রচুর পরিমাণে মহাশোল, চিংড়ি, বেলে, টেংরা, বাইট্টা এবং ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বিরল প্রজাতির লাল কাঁকড়া এ নদীতেই পাওয়া যেত।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে উপ-পরিচালব ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এই মুহূর্তেই বাঁকখালি নদীর সকল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে নয়তো সমস্যাগুলো সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, নদীর দূষণমুক্ত পানি যেমন মানুষের প্রয়োজন ঠিক তেমনি ফসল উৎপাদন করতেও প্রয়োজন। তাই বাঁকখালী নদী দূষণ মুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাজমুল হুদা বলেন,  নদীতে ৩৫ প্রজাতির মাছ, ১০ প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে। নদীকে দূষণমুক্ত না করতে পারলে এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে অচিরেই। তরল বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে দূষিত করছে যার প্রভাব আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলেও পড়ছে। তিনি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশল জনাব পরক্রম চাকমা বলেন, ২০২৮ সাল নাগাদ কস্তুরা ঘাট থেকে ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর করা হবে।

কক্সবাজার সদরের সহকারি কমিশনার ভূমি মো: মশিউর রহমান কক্সবাজারে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা নদী দখল-দূষণ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি সকল সকল পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকবৃন্দদের প্রতি আহবান জানান।

আলোচনা সভার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবসৃষ্ট বিপযর্য়ের জলন্ত উদাহরণ এ বাঁকখালি নদী। তিনি বলেন, নদী রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে জনপরিসরে ব্যাপকভবে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি যেসকল জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছিল সেগুলো যথাযথ সংরক্ষণের তাগিদ দেন । বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত ও এর নাব্যতা ফিরে না আসলে শহরে জলাবদ্ধার মত নানা রকম ঝুঁকির আশংকা করেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, গত অন্তর্বর্তী সরকার নদীটি রক্ষায় ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যায়ে “কক্সবাজার জেলার বাঁকখালী নদী পুনরুজ্জীবিত, দখলমুক্ত ও দূষণমুক্তকরণ” শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে যার মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত। তবে নদীটি দখলমুক্তকরণ ও দূষণ বন্ধে উল্লিখিত প্রকল্প এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তারা প্রকল্প ও নদী রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার নিকট জানতে চান।

জবাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন,  ৪ কিলোমিটার নদী খননের প্রকল্প রয়েছে। সামনের শুষ্ক মৌসুমে খনন কাজ শুরু হবে। ১.২ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের কাজের টেন্ডার হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

আলোচনা সভায় পরিবেশ সংগঠক, সাংবাদিক সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।


Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন