টেকনাফে ইয়াবার সংক্রান্ত বিরোধে ২ জন পিটিয়ে হত্যা, আহত ২
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী পাহাড়ের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ আরেক ব্যক্তির মরদেহ।
এ সময় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ডেংগ্যাকাটা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোক্তার কামাল (৪০) এবং একই ইউনিয়নের আমতলীঘোনা এলাকার কালু ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ আকবর প্রকাশ আব্বুইয়া।
স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরে তাঁদের উদ্ধারে গিয়ে মোক্তার কামালকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার ইলিয়াস ও আলী আহমদকে। পরে নিখোঁজ মোহাম্মদ আকবরের মরদেহ উদ্ধার করা হয় পাশের পাহাড় থেকে। নিহত দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহত ইলিয়াসের দাবি, একটি ইয়াবার চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের ডেংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
ইলিয়াস জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে তাঁদের চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। বাকি দুজন আহত হন এবং মোহাম্মদ আকবর নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলার একজন মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন ইলিয়াস।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ঘটনাটি ইয়াবা-সংক্রান্ত। ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে চালানের মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মারধর করে। অতিরিক্ত মারধরের কারণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্য ইউনিয়নের হলেও ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলা ইউনিয়নের কেউ হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পানখালী এলাকা থেকে প্রথমে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পাশের পাহাড় থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



